ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়ছে
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ: ইতিহাসের সন্তান, ইতিহাসের স্রষ্টা
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু!
"ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালির ইতিহাস" — এ কথা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। তাঁর এই অমর উক্তি শুধু কোনো দল বা সংগঠনের গৌরবগাথা নয়, এটি বাঙালির জাতীয় আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বঙ্গবন্ধুর স্বহস্তে গড়া এই সংগঠন যুগে যুগে বাঙালি জাতির মুক্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হওয়া ছাত্রলীগ কেবল একটি ছাত্র সংগঠন নয়, এটি বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথপ্রদর্শক। বাংলাদেশের জন্ম থেকে শুরু করে এর স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের সংগ্রাম এবং জাতির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঐতিহাসিক ভূমিকা
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রতিটি জাতীয় সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা পরবর্তী গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন—প্রতিটি সংগ্রামেই ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। ভাষা আন্দোলনে রফিক, শফিক, জব্বার, বরকতের মতো বীর ছাত্রদের রক্তের বিনিময়ে ছাত্রলীগ শুধু বাংলার মাটি নয়, সারা পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে দিয়েছে বাংলা ভাষার সম্মান। এ রক্তের ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়, এবং এর সাথে জড়িত রয়েছে ছাত্রলীগের আত্মত্যাগ।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ১৭ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী জীবন বিসর্জন দিয়ে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। এ লড়াই শুধু একটি দেশের স্বাধীনতার জন্য নয়, এ ছিল এক বীরত্বের মহাকাব্য। এ সংগ্রামের মাধ্যমেই বাঙালি জাতি তার সর্বোচ্চ ত্যাগের নজির স্থাপন করে। তাই বঙ্গবন্ধুর সেই বাণী— "ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালির ইতিহাস"—এর প্রেক্ষাপট এতই গভীর যে এটি আজও প্রাসঙ্গিক এবং তা চিরকাল প্রাসঙ্গিক থাকবে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগের ভূমিকা
স্বাধীনতার পরও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশের প্রতিটি সংকটে তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করে আসছে। গণমানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, সামরিক শাসন বিরোধী সংগ্রাম, জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান এবং ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধে ছাত্রলীগ সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ছাত্রলীগের ভূমিকাকে কখনোই অস্বীকার করা যায় না।
১৯৯০-এর দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একনায়কত্বের বিরুদ্ধে জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ছাত্রলীগ ছাত্রসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। এ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথ সুগম হয়। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিবাদের উত্থানের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নিরলসভাবে লড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ভেতরে এবং বাইরে যারা জঙ্গিবাদকে মদদ দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সুশৃঙ্খল ভূমিকা প্রশংসনীয়।
ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করার অপপ্রয়াস: জাতীয় ঐক্যে আঘাত
২৩ অক্টোবর, ২০২৪ সালে, বর্তমান অবৈধ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য চরম আঘাত। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগের ভূমিকা, অবদান এবং আত্মত্যাগকে অস্বীকার করে এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এ ষড়যন্ত্রের পেছনে কাজ করছে ইউনুস-আসিফ নজরুল গং, যারা বিদেশি প্রভুদের পৃষ্ঠপোষকতায় এদেশে জঙ্গিবাদ চাষাবাদ করে তাদের স্বার্থ বাস্তবায়ন করতে চায়।
সরকারের ভেতরে থাকা জামাত-শিবির ও নিষিদ্ধ ঘোষিত হিজবুত তাহরীর নেতারা মনে করে, বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করার পথে প্রধান বাধা হলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তাদের দমন করার মাধ্যমে তারা এ দেশে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, ছাত্রলীগের ভূমিকা কখনোই বাধাগ্রস্ত করা সম্ভব হয়নি, এবং ভবিষ্যতেও হবে না। ছাত্রলীগ যুগে যুগে বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় সবচেয়ে অগ্রগামী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং করবে।
অবৈধ সরকারের কার্যক্রমের প্রতিবাদ
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই সরকার অবৈধ এবং অসাংবিধানিক। এ ধরনের একটি সরকার কোনো গণতান্ত্রিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার অধিকার রাখে না। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শুধুমাত্র একটি ছাত্র সংগঠন নয়, এটি একটি জাতির শক্তি, এর ইতিহাস এবং চেতনার মূল ভিত্তি। এ সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত সরাসরি দেশের জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করার সামিল। আমরা এই অবৈধ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করি এবং জনগণের প্রতি আহ্বান জানাই, এই অবৈধ সরকারকে প্রতিরোধ করতে ঐক্যবদ্ধ হন।
এই অবৈধ সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ নয়। তারা জনগণের অধিকারকে পদদলিত করছে এবং জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করছে। আমরা এই সরকারের কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাদেরকে কোনোভাবে স্বীকৃতি দিতে চাই না। বরং আমরা মনে করি, তাদের এই দুরভিসন্ধিমূলক সিদ্ধান্ত ছাত্রলীগকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তার আদর্শিক সংগ্রামের পথে আরও বলিষ্ঠভাবে এগিয়ে যাবে।
ছাত্রলীগ: ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার অতীত গৌরবের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও দেশের প্রতিটি সংকটে নেতৃত্ব দেবে। ছাত্রলীগ কেবল ইতিহাসের সন্তান নয়, এটি ইতিহাসের স্রষ্টাও বটে। জাতির যেকোনো প্রয়োজনে ছাত্রলীগের ভূমিকা অপরিহার্য এবং তা চিরকাল থাকবে।
বাঙালির মুক্তির আন্দোলনে যেসব ছাত্রনেতারা নেতৃত্ব দিয়েছিল, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে আগামী প্রজন্মকে। বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পতাকা উঁচিয়ে রাখতে হবে। যে চেতনা ছাত্রলীগের মজ্জাগত, তা শুধু প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রবাহিত হবে।
শেষ কথা
বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার যে অপচেষ্টা, তা সফল হবে না। ছাত্রলীগ তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে আগেও কখনো ব্যর্থ হয়নি, এবং ভবিষ্যতেও হবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রলীগ এক গৌরবময় অধ্যায়, যা যুগে যুগে বাঙালির মুক্তি, স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথপ্রদর্শক। তাই এই হাস্যকর সিদ্ধান্ত অচিরেই একটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার মহিমায় উদ্ভাসিত হবে।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু!
https://comparepoisonous.com/vur2nrjy8s?key=c89bb390530da67977075f3b38ab64b1
.jpeg)
.jpeg)

.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)

.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
🥲🥲
ReplyDelete🥲🥲
ReplyDelete